স্বাধীনতা দিবসের দিন একটু মিষ্টি মুখ হয়ে যাক..


আসুন,এই স্বাধীনতা দিবস এমন একটি মিষ্টি দিয়ে উদযাপন করি যা কেবল স্বাদের কুড়িকেই আনন্দিত করে না বরং ইতিহাসের একটুকরোকেও বহন করে- নাম তার তিরঙ্গা বরফি।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত একটি প্রিয় মিষ্টি হলো বারাণসীর তিরঙ্গা বরফি।এই তিরঙ্গা বরফি কে সম্প্রতি ভৌগলিক নির্দেশক (GI) ট্যাগ দেওয়া হয়েছে।এই স্বীকৃতি কেবল বরফির স্বাদকে উদযাপন করে না, বরং সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্যকেও স্বীকৃতি দেয়। আসুন জেনে নিই তিরঙ্গা বরফির গল্পটি....

তিরঙ্গা বরফির গল্পটি শুরু হয় ১৯৪০-এর দশকে। যখন বারানসীর রাম ভান্ডার মিষ্টির দোকানের সৃজনশীল "মন মদন গোপাল গুপ্ত" এই বিশেষ মিষ্টিটি তৈরি করেছিলেন।এটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ের সময় একটি গভীর উদ্দেশ্য সাধন করেছিলো। ব্রিটিশরা স্বাধীনতার প্রতীক গুলিকে দমন করার পর, গোপাল গুপ্ত এই মিষ্টির মাধ্যমে স্বরাজের চেতনাকে প্রতিনিধিত্ব করার একটি উপায় খুঁজে পেয়েছিলেন। এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যে বিপ্লবীসভা এবং গোপন তথ্য আদান প্রদানের সুবিধার্থে তৈরি করেছিলেন তিরঙ্গা মিষ্টি।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ যখন ভারতীয় তেরঙ্গা পতাকা প্রদর্শন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছিলো, তখন তিরঙ্গা বরফি একটি নীরব প্রতিবাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলো। জাফরান, পেস্তা, খোয়া এবং কাজু বাদামের মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যাবহার করে এই মিষ্টি তৈরি করা হয়েছিলো এবং কৃত্রিম রঙের উপর নির্ভর না করেই ভারতীয় পতাকার রংগুলিকে প্রতিফলিত করা হয়েছিলো। নিষিদ্ধ পতাকার সাথে বরফির এই সাদৃশ্য দেখে ব্রিটিশরা প্রায়শই অবাক হয়ে যেতো।

আমাদের দেশের জাতীয় পতাকার রং আমরা সবাই জানি।সেই অনুসারে গেরুয়া, সাদা, সবুজ এই তিনটি স্তরের মিষ্টি বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ হলো-
১: জাফরান স্তরের জন্য - বেসন, দেশি ঘি, চিনি, এলাচ গুঁড়ো।
২: সাদা স্তরের জন্য - তাজা দুধ, লেবুর রস, ভিনেগার, চিনি, এলাচ গুঁড়ো।
৩: সবুজ স্তরের জন্য: সবুজ মটর শুটি, তাজা দুধ, গুঁড়ো দুধ, চিনি, এলাচ গুঁড়ো, দেশি ঘি।

এই তিরঙ্গা বরফি কেবল প্রতীকই ছিলো না, এটি ছিলো সচেতনতা বৃদ্ধি ও সংহতি গড়ে তোলার একটি হাতিয়ার।এটি জনগণের মধ্যে বিতরণ করার পাশাপাশি ব্রিটিশ অত্যাচারের বিরুদ্ধে সমর্থন সংগ্রহের অনুপ্রেরণা হিসেবেও কাজ করেছিলো। তাই এই তিরঙ্গা মিষ্টিকে জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য ও দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।

Comments

  1. পড়েই জিভে জল চলে আসছে 😋❤️

    ReplyDelete
  2. খুব সুন্দর ❤️

    ReplyDelete
  3. 🇮🇳❤️

    ReplyDelete
  4. ভালো লিখেছিস 👍👍👍

    ReplyDelete
  5. প্রাসঙ্গিক পোস্ট 🧡🤍💚

    ReplyDelete
  6. 👏🏻👏🏻👏🏻👏🏻

    ReplyDelete
  7. Ekdom 👍👍

    ReplyDelete
  8. জয় হিন্দ

    ReplyDelete
  9. এটা জাস্ট অসাধারণ। লেখা টাও অসাধারণ 🧡🤍💚

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

রসগোল্লা

সরভাজা

জিলিপি...